আরশ বহনকারী ফেরেশতাদের নিয়ে অবাক করা তথ্য

আরশ বহনকারী  ফেরেশতা আল্লাহর সৃষ্টি।আল্লাহ তায়ালার অপূর্ব আরশ এক অভূতপূর্ব বস্তু। বিরাট বিমাল আরশ সৃষ্টি করতে গিয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আঠারো হাজার স্তম্বের উপরে তা স্হাপন করলেন। তার এক স্তম্ব হতে অন্য স্তম্ভের দূরত্ব হলো সাতশত বছরের পথ।স্তম্বগুলো সাত তবক জমিন ও আকাশের ভিতরে পুঁতে দেয়া হলো ও স্তম্বসমূহের উপরে আরশে মুআল্লাক স্হাপন করা হলো। আরশ তৈরি করার পর আল্লাহ তায়ালা এটা বহন করার জন্য চরজন ফেরেশতা সৃষ্টি করলেন। তাদের চারজন কে ভিন্ন ভিন্ন আকৃতিতে তৈরি করা হলো।

যেমন একজনের আকৃতি হলো মানুষের মতো, দ্বিতীয় জনের আকৃতি বাঘের মতো, তৃতীয় জনকে সৃষ্টি করা হলো শকুনের আকৃতি এবং চতুর্থ জনকে বানানো হলো একটি গাভীর আকারে। এই ফেরেশতাদের আকৃতি অকল্পনীয়।  এদের পা এমন দীর্ঘ যে তা সাত তবক জমিনের নীচে গিয়ে পৌঁছল।  আর তা এমনই বিরাট যে, ঐ ফেরেশতাদের একটি পদক্ষেপে তারা অন্ততঃ সাত হাজার বছরের দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে।ফেরেশতা চতুষ্টয়কে আল্লাহ তায়ালা নিদেশ করলেনতোমরা আরশকে তুলে নাও।




সেই অনুসারে তাঁরা আরশ তুলতে উদ্যোগ করলেন। প্রত্যেকেই সবশক্তি প্রয়োগ করে আরশকে উঠানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু উঠিয়ে নেয়া তো দূরের কথা, তাঁরা তা সামান্য মাএ হেলাতেও পারলেন না। তখন আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, ওহে আমার ফেরেশতারা! যাও আমি তোমাদেরকে দুনিয়ার সমস্ত শক্তি প্রদান করলাম। অতএব আবার চেষ্টা করে দেখ আরশকে তুলে নিতে পার কিনা। এবার তাঁরা নব বলে বলীয়ান হয়ে আরশ তুলে নিতে উদ্যোগী হলেন। কিন্তু এবারও তাঁরা আরশ তুলে নিতে সক্ষম হলেন না। তাদের অবস্থা দেখে আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, বুঝেছি তোমাদের কোন শক্তি এই ব্যাপারে কাযকর হবে না।

অতএব, তোমরা সকলে এই দোয়াটি পড়ে তারপর আরশ তুলে নিতে চেষ্টা কর। ঐ দোয়াটি বেতেরের নামাযের তৃতীয় রাকাতে পাঠ করা হয়,যা দোয়া কুনূত নামে সকলের কাছে পরিচিত।  তবে ভিন্ন রেওয়ায়েতে বণিত আছে যে,দোয়াটি ছিল -
সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়ালা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু  ওয়াল্লাহু আকবর।

ফেরেশতারা এই দোয়া পাঠ করে আরশ ধরা মাএ তা দুলে উঠল , অমনি ফেরেশতারা তা উঠিয়ে কাঁধে তুলে নিলেন। এক রেওয়ায়েতে বণিত আছে যে, আরশ বহনকারী ফেরেশতারা দোয়া পাঠ করে আরশ কাঁধে তুলে নেওয়ার সাথে সাথে আল্লাহ তায়ালা নিজের কুদরতে আরও কতগুলো ফেরেশতা সৃষ্টি করলেন। তাঁরা আরশে মুআল্লার চতুঃপার্শ্বে ঘুরে ঘুরে আল্লাহ তায়ালার গুণগান করতে লাগলেন। 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.